বাংলাদেশ, জাতীয়

নির্বাচনে নিরাপত্তায় থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

'আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য ৪১৮টি ড্রোন এবং ডিজিটাল মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।'

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'- এর আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন। বাহিনীভিত্তিক সদস্য সংখ্যা হলো- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী: ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, পুলিশ: ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, সেনাবাহিনী: ১ লাখ জন,বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (সাপোর্ট সার্ভিস): ১৩ হাজার ৩৯০ জন, র‍্যাব: ৭ হাজার ৭০০ জন, নৌ-বাহিনী: ৫ হাজার জন, বিমান বাহিনী: ৩ হাজার ৭৩০ জন (স্থলভাগে ১,২৫০ জন), কোস্ট গার্ড: ৩ হাজার ৫৮৫ জন।


আরও জানান, নির্বাচনে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে (সেনাবাহিনী ২০০, বিজিবি ১০০, পুলিশ ৫০, কোস্ট গার্ড ২০, র‍্যাব ১৬, নৌ-বাহিনী ১৬ ও আনসার ১৬টি)। ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে সিসিটিভি থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যরা ২৫ হাজার 'বডি ওর্ন ক্যামেরা' ব্যবহার করবেন।


নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬ এনটিএমসি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার করা হবে। দুর্গম কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী ও কর্মকর্তাদের পরিবহনে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হবে।


আরও বলা হয়, নির্বাচনের জন্য ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আসন্ন নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২,৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৮,৭৮০টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ১৬,৫৪৮টি কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


এতে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন বাহিনীর সদস্যরা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে 'আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল' গঠন করা হবে। নির্বাচনের আগে ৪ দিন ধরে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় নিবিড় টহল পরিচালনা করা হবে।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্বাচন বানচাল বা প্রভাবিত করার যেকোনো অপতৎপরতা অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে। জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন