আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রাপ্তবয়স্করা পাবেন ৫ হাজার ডলার: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকান পার্টি জয়ী হলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৭০০ পাউন্ড) করে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত দলের প্রথম মধ্যবর্তী সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে জোগাড় করা হবে বা পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেছেন, প্রাপ্ত এই অর্থ অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি (১.৩ ট্রিলিয়ন) ডলার। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, ট্রাম্পের আরোপিত বিভিন্ন শুল্ক থেকে সরকার যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে, সেখান থেকেই এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, এটি মূলত আমেরিকান কর্মীদের জন্য এক ধরণের লভ্যাংশ, যা কোনো বিতর্কিত বিষয় নয়।

 

তবে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে একটি ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম চড়া, যার একটি বড় কারণ গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া। সম্মেলনপূর্ব বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই সতর্ক করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ শেষ হবে না এবং তেলের দামও কমবে না। এমন পরিস্থিতিতে এই বিপুল ব্যয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন দিতে হয় কংগ্রেসকে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নিয়ে তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবেন কি না, তা ভাষণে স্পষ্ট করেননি। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনো ধরণের আর্থিক সুবিধা দেওয়া মার্কিন ফেডারেল আইনে নিষিদ্ধ থাকায় এর আইনি দিক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

 তবে কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের মতে, এটি নির্দিষ্ট কাউকে ভোট দেওয়ার সরাসরি বিনিময় নয়, বরং সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য ঘোষিত একটি সাধারণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কিংবা কর ছাড়ের মতো উদ্যোগ, যা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় বাকস্বাধীনতার সুরক্ষাও পেতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ঘোষণা ভোটারদের আকৃষ্ট করার এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

ডিবিসি/হাদী

আরও পড়ুন