যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ছাড় দিতে প্রস্তুত ইরান, তবে এর বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসতে হবে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ইরানের রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে রাভানচি বলেন, ‘এখন বল আমেরিকার কোর্টে। তাদেরই প্রমাণ করতে হবে যে তারা চুক্তি করতে চায়।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরানের অর্থনীতির ধসের কারণ হয়ে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো অবশ্যই আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে।
ওমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনার পর আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফার পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রাভানচি। ওমানের আলোচনাকে তিনি ‘ইতিবাচক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের পারমাণবিক প্রধানের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সকল আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তার অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লঘু করতে রাজি হতে পারে। রাভানচি এই নমনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করলেও সাফ জানিয়ে দেন যে, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি ত্যাগ করবে না। তিনি বলেন, ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি এখন আর আলোচনার টেবিলে নেই।’
ইসরায়েল যেকোনো চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালেও, ইরান এ বিষয়ে কোনো আপস করতে নারাজ। রাভানচি বলেন, গত বছর ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যখন তাদের ওপর হামলা হয়েছিল, তখন ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের রক্ষা করেছিল। তাই এই "আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা" থেকে নিজেদের বঞ্চিত করার প্রশ্নই আসে না।
ইরানি এই কূটনীতিক অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও ব্যক্তিগত বার্তায় ওমানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ইরান জানিয়েছে, অস্তিত্বের সংকট দেখা দিলে তারা যথাযথ জবাব দেবে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যেকোনো চুক্তিতে কেবল পরমাণু ইস্যু নয়, বরং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীগুলোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
আগামী মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি দল (স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারসহ) ইরানিদের সাথে বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল
ডিবিসি/এনএসএফ