পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের সাবেক দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পৌরসভার একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সোমবার (১১ মে) রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার সকালে কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত বসু। সেখানে টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বয়ানে অসংগতি মেলায় তাকে হেফাজতে নেয় সংস্থাটি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার সাবেক উপ-পৌরপ্রধান থাকাকালীন অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের অভিযোগ ছিল সুজিত বসুর বিরুদ্ধে। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত ৬ এপ্রিল থেকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালেই তাকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। তবে নির্বাচনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি পাঁচবার হাজিরা এড়িয়ে যান এবং আদালতের শরণাপন্ন হন।
ভোট শেষ হতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১ মে প্রথমবারের মতো ইডি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেদিন দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আজ দ্বিতীয় দফায় তলব করা হয়। সোমবার সকাল থেকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি কর্মকর্তারা জানান, সাবেক এই মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে ব্যাপক অসংগতি রয়েছে এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুর বয়ানে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। নিয়োগ দুর্নীতির এই বড় চক্রের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার রাতেই সুজিত বসুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) তাকে ইডির বিশেষ আদালতে তোলা হবে। সংস্থাটি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেপ্তারে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল