আন্তর্জাতিক, ভারত

নূপুরের শব্দ আর ‘ভূতের’ গুজব! আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় ‘ভূতের’ গুজবে একটি সরকারি আবাসিক বিদ্যালয়ের হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী। চার ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের পর তাদের ‘ভূতে আছড়’ করেছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে উত্তর মহারাষ্ট্রের আদিবাসী-অধ্যুষিত মেলঘাট অঞ্চলের ডোমা গ্রামের ওই স্কুলে গত ২২ জুলাই ঘটনার সূত্রপাত হয়। উপজাতি উন্নয়ন বিভাগ পরিচালিত ওই আশ্রম স্কুলে মোট ৮১০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। ঘটনার দিন হঠাৎ চার ছাত্রী বেসামালভাবে হাসতে ও কাঁদতে শুরু করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি কয়েকজন ছাত্রী নূপুরের শব্দ শুনেছে বলেও দাবি করে। এরপরই ভয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী ওই হোস্টেল ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়।

 

কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই আতঙ্কের পেছনে স্থানীয় বেশ কিছু কুসংস্কার ও বিশ্বাস দায়ী। স্থানীয়দের ধারণা, স্কুল চত্বরে থাকা একটি ‘মহুয়া’ গাছ কেটে ফেলায় সেখানে বসবাসকারী অশরীরীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে। পাশাপাশি, আশ্রম স্কুলের পেছনের একটি মন্দিরের জায়গায় হস্তক্ষেপ করে নিকাশি নালা তৈরি করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও অনেকে মনে করছেন। এছাড়া স্কুলের কাছের মাঠে মৃত এক আদিবাসী যুবকের আত্মাকেও এই ঘটনার কারণ হিসেবে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।

 

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই গুজবের পেছনে অতিপ্রাকৃত কোনো কারণ নাকচ করে দিয়েছেন। আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলটি পরিদর্শন করেছে এবং এর সঙ্গে অতিপ্রাকৃত কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেছে। মূলত মানসিক চাপের কারণে হিস্টিরিয়ার মতো একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ফলেই এমনটি ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছাত্রীদের ওই অস্বাভাবিক ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়। মূলত কুসংস্কার, ভয়, মানসিক চাপ এবং আত্মা-সংক্রান্ত স্থানীয় বিশ্বাসের কারণেই এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন