বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ব্রাজিল জাতীয় দলে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। নেইমারের অবসরের পর এবার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো ও ডিফেন্ডার দানিলোও আর জাতীয় দলের জার্সিতে খেলবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬৭ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচ বলেন, সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের একটি সফল প্রজন্মের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপ ব্রাজিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। নেইমারের পাশাপাশি দানিলো ও কাসেমিরো যারা বিশ্বকাপের সময় ৩০ বছরের বেশি বয়সী ছিল তাদের জাতীয় দলের অধ্যায়ও এখানেই শেষ।’
বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো শিগগিরই লিওনেল মেসির সতীর্থ হিসেবে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সী দানিলো খেলছেন ফ্লামেঙ্গোর হয়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পাঁচটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন দুজন। জাতীয় দলের হয়ে কাসেমিরো খেলেছেন ৯১টি এবং দানিলো ৭৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আনচেলত্তি জানান, আগামী দিনের পরিকল্পনায় তরুণ ফুটবলারদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে অভিজ্ঞদের সবাইকে একসঙ্গে বিদায় জানানো হচ্ছে না।
এর আগে গত মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার পেয়েছি। এই জার্সির জন্য আমার রক্ত, ঘাম, জীবন সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর আমি এটি চালিয়ে যেতে চাই না।’
আনচেলত্তি আরও জানান, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দল গঠনের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন নতুন খেলোয়াড় খুঁজছি, যারা জাতীয় দলে এসে অবদান রাখতে পারবে। আমি এখনই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি না। আমাদের প্রথম লক্ষ্য ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তুলতে চাই।’
তবে অভিজ্ঞদের পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন ব্রাজিল কোচ।
তার ভাষায়, ‘আমি বলছি না যে বর্তমান ২৬ জনের সবাইকে বদলে ফেলব। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার অবশ্যই থাকবে, যারা আমাদের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। উদাহরণ হিসেবে মারকিনিওসের কথা বলা যায়।’
নতুনভাবে সাজানো ব্রাজিল দলের প্রথম পরীক্ষা হবে আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচগুলোতে। ২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে সেলেসাও। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ডিবিসি/আরএফই