আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ধোঁকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ৩রা জুন ২০২৬ ০৮:০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পূর্বসূরি জো বাইডেন, উভয়ের আমলেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তাদের ক্ষোভ ও হতাশার খবর বারবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সম্প্রতি অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন বৃদ্ধির জেরে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা ও গালিগালাজ করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব কেবলই ফাঁকা আওয়াজ এবং কৌশলগত তথ্য ফাঁসের অংশ; কারণ বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই মিত্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটল সমর্থন ও নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ বাইডেন প্রশাসনের সময় পার করে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দশ মাস পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই পুরোটা সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে এবং জাতিসংঘে একাধিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে।

 

নেতানিয়াহুকে ধমক দেওয়ার এসব বেনামি খবরের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেছেন ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল অ্যাকশনের (এনআইএসি) পলিসি ডিরেক্টর রায়ান কস্টেলো এবং অধিকার গোষ্ঠী ডন (DAWN)-এর অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার ইসাবেল হেইস্লিপ। তাদের মতে, মার্কিন নেতারা প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকেন এবং নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত সেটাই পান, যা তিনি চান। এমনকি ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় এক বৈঠকে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘হিরো’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসরায়েলের বর্তমান ধ্বংসযজ্ঞ মার্কিন সমর্থন ছাড়া কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। বর্তমানে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে এবং এপ্রিলে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও হুমকির মুখে পড়েছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর সাথে যৌথভাবে ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু করার পর ট্রাম্প বর্তমানে নিজ দেশেই মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে চাপে রয়েছেন। এই যুদ্ধ ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষা করছে না বলে ডেমোক্র্যাট ও নিজ দলের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নিগার মুর্তজাভি মনে করেন, চলমান এই অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতেই মূলত ট্রাম্পকে ইসরায়েলের প্রতি কঠোর হিসেবে তুলে ধরতে এসব ফোনালাপের খবর ফাঁস করা হচ্ছে। এছাড়া, এটি ইরানের প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি তথ্য যুদ্ধ, যেখানে সব পক্ষই নিজেদের পক্ষে জনমত গড়তে ভুল তথ্য ও কৌশলগত খবর ফাঁসের আশ্রয় নিচ্ছে। বাস্তবে মার্কিন নীতি ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্যের সাথেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত রয়েছে।

 

সূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন