ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর ওয়াশিংটনকে নতুন করে সতর্ক করেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটি যুদ্ধ চায় না, তবে আবার কোনো হামলা হলে তার ‘দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দেওয়া হবে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, রবিবার লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলায় বেসামরিক মানুষ ও সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। জুলাইয়ের পর এটিই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নেতানিয়াহুকে ‘সর্প’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ইসরায়েলের স্বার্থেই ওয়াশিংটনকে সংঘাতে টানা হয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খার্গ দ্বীপে হামলা দেখানো একটি এআই-তৈরি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে একটি সুপারট্যাংকার দুটি সামুদ্রিক মাইনে আঘাত করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জাহাজগুলোকে তাদের নির্ধারিত নৌচলাচল বিধি মেনে চলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি বড় ধরনের সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের কারণে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত রাজনৈতিক সমাধান ও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা হলে তা আগের সমঝোতার ভিত্তিতেই হতে হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডিবিসি/এসএফএল