বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

নেত্রকোণায় টেন্ডার নিয়ে দ্বন্দ্ব; দুই প্রকৌশলীর ওপর হামলার অভিযোগ

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নেত্রকোণার মদন পৌরসভায় এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করাকে কেন্দ্র করে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা এই হামলার অভিযোগে পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও এক হিসাবরক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে মদন পৌরসভা কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি দাতা সংস্থা এডিবির অর্থায়নে ‘রিহ্যাবিলিটেশন, কনস্ট্রাকশন, ইমপ্রুভমেন্ট অব রোডস’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মদন পৌরসভা। ২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল মদন পৌরসভার প্রশাসক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

 

রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রকল্পের সাইট বুঝে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আসলাম মোল্লা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী জামিল হাসানের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও রামদা নিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে উপসহকারী প্রকৌশলী জামিল হাসান, প্রকৌশলী আসলাম মোল্লা এবং হিসাবরক্ষক আব্দুর রশিদকে মারধর করা হয়।

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্রকৌশলী আসলাম মোল্লা জানান, নিয়মমাফিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তারা কাজটি পান। কিন্তু এরপর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কাজটি না করার জন্য তাদের নিষেধ করে আসছিলেন। আজ কাজ বুঝে নিতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং পরবর্তীতে মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

এদিকে হামলার শিকার পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী জামিল হাসান জানান, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মামলা করার নির্দেশ দিলেও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চাইছেন না বলে জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পরই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে পুনরায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

অন্যদিকে, মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এবং পৌর প্রশাসক শাওনিন নাহার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন