নেত্রকোণার বারহাট্টায় বিয়ের অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন নিয়ে অসন্তোষের জেরে কনের বাড়ির লোকজনের হামলায় আহত বরের বাবা আবুল খায়ের (৫৮) মারা গেছেন। বুধবার (২৬শে নভেম্বর) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বারহাট্টা উপজেলার বন্দেরবাড়ি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল খায়ের ওই গ্রামেরই বাসিন্দা এবং পেশায় কৃষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে আবুল খায়েরের ছেলে সগীর মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের জুয়েল মিয়ার মেয়ে স্বর্ণা আক্তারের বিয়ে হয়। বর ও কনের পরিবার একে অপরের আত্মীয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে ৩৫ জন বরযাত্রী কনের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করেন। তবে কনের বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে বরযাত্রীদের যথাযথভাবে আপ্যায়ন না করাসহ খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
ওই দিন সন্ধ্যায় বরের বাবা আবুল খায়ের কনের চাচার চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। সেখানে বিয়েবাড়ির খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কনের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কনের চাচাতো ভাই ধন মিয়া, ময়না মিয়া, সোনা মিয়া, পলাশ মিয়াসহ কয়েকজন মিলে আবুল খায়েরের ওপর হামলা চালান। তাঁরা রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
হামলার পর স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার (২৬শে নভেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি মারা যান। এদিকে আবুল খায়েরের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ধন মিয়াসহ অন্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের ছেলে আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ডিবিসি/এসএফএল