নেদারল্যান্ডসে ২০২৬ সালের ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে চলা এই তাণ্ডবে আতশবাজির আঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আমস্টারডামের একটি ঐতিহাসিক গির্জায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সান পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আতশবাজি সংক্রান্ত পৃথক ঘটনায় নিজমেগেনে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং আলসমিরে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
আমস্টারডামে নববর্ষের রাতে সহিংসতার চরম রূপ দেখা যায় যখন বিখ্যাত ভন্ডেলকার্ক গির্জায় আগুন ধরে যায়। ১৮৮০ সালে নির্মিত এই ঐতিহাসিক গির্জাটির ১৬৪ ফুট উঁচু টাওয়ার আগুনে ধসে পড়ে এবং ছাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের ধারণা, আতশবাজি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
আগুন নেভানোর সময় আশেপাশের বহু বাড়িঘর খালি করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়।
ডাচ পুলিশ ইউনিয়নের প্রধান নাইন কুইম্যান জানিয়েছেন, পুলিশ ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদের ওপর এবার রেকর্ড পরিমাণ সহিংসতা চালানো হয়েছে।
রাজধানী আমস্টারডামে দায়িত্বরত অবস্থায় কুইম্যান নিজেও তিনবার আতশবাজির আঘাত খেয়েছেন। ব্রেডা শহরে পুলিশের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে মোবাইল অ্যালার্ট জারি করতে বাধ্য হয়, যেখানে জীবন বিপন্ন না হলে জরুরি নাম্বারে ফোন না করার অনুরোধ জানানো হয়।
রটারডামের চক্ষু হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা চোখের আঘাত নিয়ে আসা ১৪ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই শিশু। ডাচ পাইরোটেকনিক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, এবার রেকর্ড ১২৯ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের আতশবাজি কেনা হয়েছিল। এদিকে প্রতিবেশী দেশ জার্মানির বিয়েলেফেল্ড শহরেও ঘরে তৈরি আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে দুই তরুণের মৃত্যু হয়েছে এবং বার্লিনে বিশৃঙ্খলার কারণে প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবিসি/এনএসএফ