আন্তর্জাতিক

নেপালে একই মরদেহ দুই পরিবার দাবি করায় ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নেপালের ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধারকৃত মরদেহ শনাক্তকরণে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। একই মরদেহ একাধিক পরিবার নিজেদের দাবি করায় পোখারার হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের মর্গে থাকা ১০০৩ নম্বর মরদেহটি নিয়ে এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে। মাইরং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক গোপাল দাহিত এবং রূপান্দহীর ট্যুরিস্ট গাইড দামোদর বাসিয়াল- উভয়ের পরিবারই এই মরদেহটিকে তাদের নিখোঁজ স্বজন বলে দাবি করছে। দুই পরিবারই মরদেহের শারীরিক গঠন ও বিভিন্ন চিহ্ন নিজেদের স্বজনের সাথে হুবহু মিলছে বলে দাবি করায় রোববার উভয় পক্ষের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 

 

পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গে সংরক্ষিত থাকবে। কাস্কি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কেবল এই একটি মরদেহ নয়, অন্য আরেকটি মরদেহ নিয়েও একই ধরনের দ্বিপক্ষীয় দাবি উঠেছে। ভুলবশত অন্য কারও মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতেই পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।

 

গোর্খা, তানাহুন এবং পূর্ব নাওয়ালপরাসি থেকে উদ্ধার হওয়া ১০২টি মরদেহ পোখারায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রবিবার পর্যন্ত ১৬টি মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোপাল দাহিতের পরিবার বারবর্দিয়া থেকে পোখারায় গিয়ে ছবি দেখে মরদেহটি শনাক্ত করেছিল। কিন্তু বড় ভাই কৃষ্ণা বাহাদুর থারু পৌঁছানোর আগেই অপর নিখোঁজ ব্যক্তি দামোদর বাসিয়ালের বড় ভাই রাধে শ্যাম শর্মা বাসিয়ালও ছবি ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মরদেহটি নিজের ভাইয়ের বলে দাবি করেন। উভয় পক্ষই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্যতা প্রমাণের পর মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

 

এদিকে পোখরা হাসপাতালের মর্গে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মরদেহ চলে আসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ৭২টি হিমায়িত কম্পার্টমেন্ট থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত মরদেহ রাখার জন্য কোল্ড রুমের ভেতরে একটি বিশেষ কন্টেইনার স্থাপন করা হয়েছে। ৫ জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় ল্যাবের বিশেষজ্ঞরা ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহে কাজ করছেন।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচয় না পাওয়া গেলে মৃতদেহগুলোর ছবি, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ সংরক্ষণ করে নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে দাফন করা হবে, যাতে পরবর্তীতে ১২ বছরের মধ্যে স্বজনরা এলে ডিএনএ মিলিয়ে দেহাবশেষ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়। তবে পোখারায় পর্যাপ্ত আধুনিক হিমঘর সুবিধা থাকায় এখনই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন না করে আরও কিছুদিন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও বডি ম্যানেজমেন্ট কমিটি।
 

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন