নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে নদীর উজানে এখনও একটি বিশাল প্রতিবন্ধকতা বা ব্লকেজ আটকে আছে। এটি যেকোনো সময় ভেঙে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রলয়ংকরী বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। এর ফলে ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলি নদীর স্রোত বেয়ে প্রবল বেগে পানি, কাদামাটি এবং বিশাল আকারের পাথর ধেয়ে আসে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই নদীগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়ে চারপাশ প্লাবিত করে ফেলে।
হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ও দুর্যোগ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) এই নতুন বিপদের বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটি তাদের একটি বিস্তারিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, উজানে আটকে থাকা ব্লকেজটি দ্রুত অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুভিত্তিক এই আন্তঃসরকারি সংস্থাটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, চীন, ভুটান, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তানসহ হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশের পর্বত পরিবেশ, হিমবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা অন্যতম প্রধান একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
হঠাৎ করে এমন প্রলয়ংকরী বন্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা। একইসঙ্গে উজানে আটকে থাকা ব্লকেজটি থেকে সামনের দিনগুলোতে আরও কী ধরনের বিপদ ধেয়ে আসতে পারে, তা দ্রুত মূল্যায়নের চেষ্টা করছেন তারা। যেন সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন