আন্তর্জাতিক, ভারত

নেপালে বন্যার পর বিহারে সতর্কতা, বন্যার মাছ খাওয়া ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নেপালে আকস্মিক বন্যার জেরে পাহাড়ি ঢল ও বানের পানি প্রবেশ করেছে ভারতের বিহারে। এর ফলে রাজ্যের নদীগুলোতে ভেসে আসা অপরিচিত প্রজাতির মাছ খাওয়া, শিকার ও কেনাবেচার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিহারের পশুপালন ও মৎস্য সম্পদ বিভাগ। এই মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইতিমধ্যে এগুলো খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বানের পানিতে ভেসে আসা মাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে নেপাল পুলিশও।

মৎস্য বিভাগের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বন্যার কারণে পুকুর ও জলাশয় উপচে মাছ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব মাছ ড্রেনের দূষিত বর্জ্য, মৃত পশুপাখি এবং নানাবিধ রোগজীবাণুর সংস্পর্শে আসায় তা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো অপরিচিত মাছ না খাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। মাছ খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথা ঘোরানো বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

নেপালের ত্রিশূলী নদী থেকে পানি এসে বিহারের গণ্ডক ও কোশী নদীতে মিশেছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি, পাথর ও গাছের গুঁড়ির পাশাপাশি ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্রিজ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংসাবশেষ, যানবাহন ও গৃহস্থালির সামগ্রী ভেসে আসছে। এমনকি মানুষ ও পশুর মৃতদেহ ভেসে আসায় নদী ও বন্যার পানির দূষণ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই দূষিত পানি সাধারণ মানুষের পানীয় জলের উৎসে মিশে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো মারাত্মক পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। পাশাপাশি জমে থাকা পানির কারণে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া ও চর্মরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

 

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির মান। বিহারের নেপাল সীমান্তবর্তী জেলাগুলো যেমন পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, সীতামার্হি, কিষাণগঞ্জ, পূর্ণিয়া এবং আরারিয়ায় আগে থেকেই পানিতে আর্সেনিক ও উচ্চমাত্রার আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। বন্যার পানি এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। এ ছাড়া কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্যশস্য ও শাকসবজির ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার এবং পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন