আন্তর্জাতিক, এশিয়া

নেপালে বানের জলে ভাসছে শত শত মরদেহ, পচন রোধে দেয়া হচ্ছে গণকবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় ভেসে আসা মরদেহের স্তূপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

দেশটির দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের চিতওয়ান জেলায় অজ্ঞাত বহু মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকায় এবং মর্গে জায়গা না থাকায় সেগুলো সাময়িকভাবে মাটিচাপা (গণকবর) দেওয়া শুরু হয়েছে।


বুধবারের প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিন সহস্রাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ভোটেকোশী নদীর তীব্র স্রোতে বানের উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার ভেসে চিতওয়ান জেলায় প্রায় ২৫০টি মরদেহ এসে পৌঁছায়।


উদ্ধার করা মরদেহগুলোর বেশিরভাগই চার দিন ধরে পানিতে থাকায় দ্রুত পচতে শুরু করেছে। তীব্র আর্দ্রতা, গরম এবং পর্যাপ্ত হিমাগার (মর্গ) না থাকায় মহামারি ও রোগবালাইয়ের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে গর্ত খুঁড়ে অন্তত ১০০টি মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে। আরও বহু মরদেহ দাফনের অপেক্ষায় রয়েছে।


পুলিশ কর্মকর্তা অনিল থাপা জানান, মরদেহগুলোর সুরতহাল, ছবি এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট রেফারেন্স নম্বর দিয়ে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিচয় শনাক্ত হলে স্বজনরা চাইলে দেহাবশেষ উত্তোলন করে নিয়ে যেতে পারবেন।


এদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নেপালে দাহ করার পরিবর্তে এভাবে দ্রুত মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ায় নিখোঁজদের পরিবার ও বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাই একে অনুপযুক্ত আখ্যা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী কোল্ড স্টোরেজ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।


তবে সমালোচনার মুখে নেপালের পররাষ্ট্র সচিব অমৃত বাহাদুর রাই স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা মেনেই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তথ্য যাচাই করে স্বজনরা তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারবেন।


সূত্র: এবিসি নিউজ


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন