নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকে নেপাল সরকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবারের এই বন্যায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৪৭৫-এ পৌঁছেছে। অন্যদিকে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিঝাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যা তিব্বত নামেও পরিচিত, সেখানে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীন। এতে দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৮ জনে।
বুধবার ভোরে নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস আঘাত হানে। এতে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরের বহু জনবসতি এবং সেখানকার মানুষ ও ধ্বংসস্তূপ ভেসে যায়। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩৩টি দেশের ৫৯৬ জন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, ১২৭ জন নেপালি নাগরিকেরও কোনো খোঁজ মিলছে না।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বি. ছেত্রী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, সরকার দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় যেকোনো নির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত সেবার জন্য অনুরোধ করা হতে পারে।
নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে বাড়িঘর, সেতু, রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেসে গেছে। এতে দেশের অন্যান্য অংশ থেকে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত রয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পরিবহন ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডিবিসি/এসভিএন