নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর এবার আরও দুটি হিমবাহের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। ধসে পড়া হিমবাহের ঠিক পাশেই এগুলোর অবস্থান। সম্প্রতি এ দুটি হিমবাহেও ফাটল দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ তাদের হাতে আসা কিছু স্যাটেলাইট ও ড্রোন চিত্রে হিমবাহ দুটিতে ফাটলের লক্ষণ দেখা গেছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফাটলগুলোর অর্থ এই নয় যে হিমবাহ দুটি এখনই ধসে পড়বে, এগুলো অনেক আগে থেকেই সেখানে থাকতে পারে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের জলবায়ু ও জলবিজ্ঞান বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, কাছাকাছি থাকা অন্য হিমবাহটিতে যা ঘটেছে, তা মাথায় রেখে আমরা সম্ভাব্য সব উপায়ে এটি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছি।
চীন থেকে পাঠানো ড্রোন ছবিগুলো নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নেপাল সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট লাংটাং লিরুংয়ের উত্তর ঢালে হিমবাহ ধসের মূল এলাকা এবং এর আশপাশ থেকে ওই ছবিগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। হিমালয়ের দুর্যোগ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা 'আইসিমোড'-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই হিমবাহ দুটি থেকে গলে যাওয়া পানি একই লেন্দে নদীতে গিয়ে মেশে।
আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং বলেন, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে হিমবাহ দুটির একটিতে ঝুলে থাকা বরফের বড় টুকরো বা 'হ্যাংগিং গ্লেসিয়ার' থাকতে পারে, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা জরুরি।
বিজ্ঞানীদের মতে, ঝুলন্ত এই হিমবাহগুলো আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এগুলোর অবস্থান খাড়া পাহাড়ের ঢালে, ঠিক যেভাবে বুধবার ধসে পড়া হিমবাহটির একটি অংশ অবস্থান করছিল।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন