আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

নোবেল পদকের বিনিময়ে ব্যাগ উপহার পেলেন মাচাদো!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে নিজের অর্জিত ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে। তবে বিনিময়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমর্থনের বদলে পেয়েছেন কেবল প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সংবলিত একটি উপহারব্যাগ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এ ‘ঐতিহাসিক’ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।

 

সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাচাদো আশা করেছিলেন নিজের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন নোবেল পদকটি ত্যাগ করার মাধ্যমে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের মন গলাতে পারবেন এবং ভেনেজুয়েলার আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, এই ত্যাগের পরেও ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের প্রশ্নে মাচাদোর সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের পূর্বের নেতিবাচক অবস্থানে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি।

 

সাক্ষাৎকার শেষে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে আসার সময় মাচাদোর হাতে নিজের পার্সের পাশাপাশি একটি লাল রঙের ব্যাগ দেখা যায়। সেই ব্যাগের ওপর সোনালি অক্ষরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ছাপ স্পষ্ট ছিল। তবে উপহারের এই ব্যাগের ভেতরে ঠিক কী ছিল, তা এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।\

 

মাচাদো সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন ও মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পেরেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাৎটি মাচাদোর জন্য কেবল একটি ‘ফটো সেশন’ বা ছবি তোলার সুযোগ ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

 

এদিকে, নোবেল পদক উপহার পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, মাচাদো তাকে পদকটি উপহার দিয়েছেন যা পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ নিদর্শন। তবে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল পিস সেন্টার থেকে একটি কড়া সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, একটি পদক হাতবদল হতেই পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বা মর্যাদা আইনত অন্য কারো নামে স্থানান্তর করা অসম্ভব। অর্থাৎ, মাচাদো পদকটি দিয়ে দিলেও ইতিহাসের পাতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই এই পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে গণ্য হবেন না।

 

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মাচাদো বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছেন। নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী গ্রেপ্তার করার পর ভেনেজুয়েলার মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ট্রাম্প প্রশাসন এক্ষেত্রে বিরোধী নেত্রী মাচাদোকে সমর্থন না দিয়ে বরং মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকেই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে।

 

বৈঠক শুরুর আগেই ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্পের বিরূপ ধারণার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ট্রাম্প মনে করেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন বা ‘জনভিত্তি’ মাচাদোর নেই। 

 

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ডেলসি রদ্রিগেজকেই একজন স্থিতিশীল ও বাস্তবসম্মত নেতা হিসেবে বিবেচনা করছে, যার মাধ্যমে তারা ভেনেজুয়েলায় মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে বলে বিশ্বাস করে। ফলে নোবেল পদক দিয়েও নিজের রাজনৈতিক ভাগ্য ফেরাতে ব্যর্থ হলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

 

তথ্যসূত্র: সিএনএন

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন