শিক্ষা

নোয়াখালীতে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আপত্তিকর ভিডিও, ছড়িয়ে পড়ায় ২ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব। এর আগে গত রোববার পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

 

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন বেগমগঞ্জের মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ বি এম সাইফুল ইসলাম এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার।

 

বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলনজনিত কারণে তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তারা খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করা হয়। এরপর তাদের নিজ কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বি এম সাইফুল ইসলামকে দূরবর্তী বালুচরা সমাজ কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। যদিও কাগজে-কলমে তাদের মূল কর্মস্থল ছিল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই।

 

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষের দিকে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং তাদের সাময়িক বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালীন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই ওই দুই শিক্ষক অবস্থান করছিলেন এবং সেই সময়ই ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন