বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নোয়াখালী পৌর এলাকায় স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম রনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিম শাহী জানান, আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে এবং নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার নিজ বাসা জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার গলা এবং হাত ও পায়ের রগ কাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় ঘটনার রাতেই অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কিছুদিন আগে অদিতা রনির কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করায় ক্ষুব্ধ হন রনি। এরপর ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে রনি দুপুরে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে তিনি অদিতাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

 

গ্রেপ্তারের পর রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন