নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বসতবাড়িতে মাদক কারবার ও রাজনৈতিক অপকর্ম পরিচালনায় বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধা মাকে মারধর ও বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে জাবেদ (৩৫)। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, জাবেদ তার সহযোগীদের নিয়ে নিজের বসতবাড়িকে আস্তানা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব অসামাজিক ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তিনি এবং তার সহযোগীরা নিজ মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার শুরু করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনাও ঘটে।
ভুক্তভোগী মা ছালেয়া খাতুন (৬৮) জানান, গত ২৭ মে রাতে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালাসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর করে। সে সময় বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধা মা ও বাবাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। নিরুপায় হয়ে শেষপর্যন্ত তিনি ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের পশ্চিম চরজুবলি গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ি থেকে চরজব্বর থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান জানান, বৃদ্ধা মায়ের লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃত জাবেদের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া বিস্ফোরক ও মারামারির আরও দুটি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল