নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর সরকারি ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান পাওয়ার তালিকায় তার নিজের মেয়ে এবং শ্বশুরবাড়ি এলাকার লোকজনের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের অনুমোদিত এই তালিকার একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বণ্টনের জন্য ২১ জনের একটি তালিকা সচিবালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। চিঠির সঙ্গে অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ওই তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামের এক ব্যক্তির নাম রয়েছে, যা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়রা দাবি করছেন। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থানে একটিতে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অপরটিতে ‘মো. আতাউর’ লেখা রয়েছে। এই দুটি নামের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু নিজের দায় অস্বীকার করে পুরো ঘটনার জন্য তার ব্যক্তিগত সচিবকে (পিএস) দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না। আমার পিএস তালিকা দেওয়ার কথা জানালে আমি তাকে আমার সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নাম দিতে বলি। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড তার কাছে ছিল। কিন্তু পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে, যা আমি কখনোই চাইনি।" অনুদানের টাকা আসার বিষয়টিও তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন এবং জানান যে এমন তালিকা অনুযায়ী তিনি তার মেয়ের নামে টাকা নেবেন না।
এ প্রসঙ্গে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির জানান, সংসদ সদস্যের ডিও লেটার অনুযায়ী সচিবালয় থেকে এই অনুদানের তালিকা অনুমোদিত হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই টাকা দিতে হবে; এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তালিকাভুক্ত কেউ টাকা নিতে না এলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। তবে স্থানীয়ভাবে এই তালিকা সংশোধনের বা নতুন তালিকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, পরিবর্তন করতে হলে তা সচিবালয় থেকেই করতে হবে।
ডিবিসি/পিআরএএন