নড়াইলে চোর সন্দেহে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আনোয়ার নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।
এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন রাতে তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ২৫ জুন সকালে খবর পেয়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গিয়ে আনোয়ারকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখতে পান তারা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ ও হৃদয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনের একটি গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখেন এবং নির্মমভাবে মারধর করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রসেনজিত ওই প্রতিবন্ধী যুবকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান। অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত আনোয়ারের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। ঘটনার দিনও সে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমি এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন-সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তিটি আমাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। তখন 'চোর, চোর' বলে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তবে তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা আমরা জানি না। উল্টো আমার ছেলে প্রসেনজিতই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছিল।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবিসি/এসএফএল