জেলার সংবাদ

নড়াইলে দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে এক হলেন ৫ গ্রামের হাজারো মানুষ

নড়াইল প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘ ৪০ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব ও সংঘাত ভুলে এক কাতারে মিলিত হয়েছেন পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং চিরস্থায়ী সম্প্রীতি গড়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে এক বিশাল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এই সভার মধ্য দিয়ে হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা অতীতের সকল হানাহানি ভুলে নতুন করে একতাবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত চার দশক ধরে এই পাঁচটি গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম বৈরিতা বিরাজ করছিল। দীর্ঘ এই সময়ে অর্ধশতাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। এছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে বারবার। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই এসব এলাকায় সংঘাত চরম আকার ধারণ করত। তবে মঙ্গলবারের এই সমাবেশের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছরের সেই সংঘাতময় ইতিহাসের অবসান ঘটল।

 

চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের সমাজসেবক আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ও নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির শেখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি এবং ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আজ থেকে এই পাঁচ গ্রামে আর কোনো মারামারি বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে না।

 

সভায় পাঁচটি গ্রামের শান্তি ও ঐক্য অটুট রাখার স্বার্থে সর্বসম্মতিক্রমে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির শেখের নাম ঘোষণা করা হয়। এলাকায় সম্প্রীতি রক্ষায় আগামী নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করতে সবাই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রাম্য সংঘাত ও রক্তপাতের অবসান ঘটিয়ে হাজারো মানুষের এই অভূতপূর্ব মিলনমেলাকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শান্তি ও ঐক্যের এই নবযাত্রা যেন আজীবন অটুট থাকে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন