নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে ৫ বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নিহত শিশুর নাম জান্নাতুল।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রবিউল সিকদার (৩৫) পলাতক রয়েছেন। তিনি একই গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
নিহত শিশুর চাচা মুজিবুর রহমান জানান, সোমবার বিকেলে জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি কিনে আনেন। মিষ্টি খেতে খেতে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘুরছিল। এ সময় প্রতিবেশী ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদার তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জান্নাতুল ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন আশপাশের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝেতে কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় জান্নাতুলের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, রবিউল বিবাহিত হলেও তার স্ত্রী-সন্তান দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে নেই, তিনি একাই ওই ঘরে থাকতেন।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সীমাখালী গ্রামের এনামুল সরদারসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বলেন, অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের পর এমন নৃশংস হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত রবিউলকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে তার পরিবারের অন্য কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফ আকবার জানান, শিশু জান্নাতুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
ডিবিসি/এমএনকে