পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রবিবার (৭ জুন) দিবাগত গভীর রাতে বিজিবির সঙ্গে আলোচনার পর তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ভারতীয় সীমান্তের ফ্লাডলাইট বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
গত শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর বাধার মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে ওই ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন। টানা প্রায় ৭০ ঘণ্টা সেখানে অবস্থানকালে কয়েক দফা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্মুখীন হন তারা। এ সময় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়ের তীব্র সংকটে দলটিতে থাকা নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত ওই ১০ জনকে সীমান্ত এলাকায় দেখা গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী জানান, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা ওই মানুষদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। সোমবার রাতে হঠাৎ করেই ভারতীয় সীমান্তের সব ফ্লাডলাইট নিভে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আলো জ্বলে উঠলে দেখা যায় সেখানে আর কেউ নেই। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নারী ও শিশুদের কষ্টকর অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছে।
এর আগে আটকে থাকা দলটির চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। তারা হলেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা শামসুল, তার স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের সবার কাছেই ভারতীয় আধার কার্ড ছিল। ওই পরিবারের দাবি, ভারতীয় পুলিশ তাদের প্রথমে আটক করে এবং বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর বড়বাড়ি সীমান্তে নিয়ে এসে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার মধ্যরাতে বিএসএফ ওই ১০ জনকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে এবং যাওয়ার আগে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তারা কথা বলেছে। বর্তমানে ওই সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির টহল এবং নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ডিবিসি/পিআরএএন