শাহ্ জামাল সরকার, পেশায় একজন কামার। তবুও বছরের পর বছর চলছে তার সাহিত্য চর্চা। কবির লেখায় উঠে এসেছে প্রতিবাদ আর দেশপ্রেম। চমৎকার ছন্দ আর শব্দমালায় কবিতা সাজালেও অবহেলিত পঞ্চগড়ের এই কবি।
ধার দেনা করে কয়েকটি বই প্রকাশ করলেও অনেক পাণ্ডুলিপিই রয়ে গেছে অপ্রকাশিত।
দিনভর টেনে চলছেন কামারশালার হাপর। তবুও থেমে নেই কাব্যচর্চা, দেশপ্রেম আর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তুলে ধরছেন কাগজে কলমে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার বীরপাড়ার শাহজামাল সরকার। অষ্টম শ্রেণিতে কেবল একদিন স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো। বাবা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলে হাল ধরেন কামারশালার।
স্থানীয় একটি ক্লাব থেকে নাটকে স্বরচিত কবিতার লেখায় হাতে খড়ি। সময় পেলেই চলে সাহিত্য চর্চা। এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ‘হাসি খুশি’, ‘জনপদে জাগরণ’ ও 'একা আমি, আমার আগুন’ নামে তিনটি ছড়া ও কবিতার বই। এছাড়াও বহু কবিতা, গল্প আর নাটকের পাণ্ডুলিপি রচনা করলেও অর্থাভাবে তা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।
কবি শাহজামাল সরকার বলেন, 'প্রতিদিন না লিখতে পারলেও কবিতা নিয়ে ভাবি। সব সময় ভাবনার মধ্যে থাকি। আমার এই সৃষ্টি হয়তো কোনো এক সময় মানুষ পড়বে।'
অভাবের সংসারে সাহিত্য চর্চা নিয়ে প্রায়ই স্ত্রীর সাথে চলে মান-অভিমান। তবুও প্রেরণা পান তার কাছ থেকেই। সময় পেলেই পাড়া প্রতিবেশিদের নিয়ে মেতে ওঠেন গল্প আর আড্ডায়। তার স্ত্রী বলেন, 'বিয়ের পর থেকেই দেখছি উনি কবিতা লেখেন, অনেক স্থানে যান। বাড়িতে কিছু থাকুক বা না থাকুক, সেদিকে কোনো নজর থাকেনা।'
আগুনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা কবি শাহজামালের স্বপ্ন, অপ্রকাশিত লেখাগুলো আলোর মুখ দেখুক। বই আকারে স্থান পাক বাংলা সাহিত্যে। এমনটাইপ্রত্যামা করেন স্থানীয়রা।