জেলার সংবাদ

পঞ্চগড়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী রেহেনা বেগম উর্মি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে এই টাকা ফেরতের দাবি জানান, যার ভিডিওটি সম্প্রতি ভাইরাল হয়। তবে ইউএনও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং তার পক্ষে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

রেহেনা বেগম উর্মির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি ইউএনও কার্যালয়ে সহায়তার জন্য যান। তখন ইউএনও তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ইউএনওকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর দেওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি ইউএনওর বদলির খবর শুনে তিনি টাকা ফেরত চাইতে গেলে ইউএনও তাকে চিনতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন।


ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরুর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গত এক বছর তিন মাস ধরে দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। বদলির আদেশের পর হঠাৎ এমন অভিযোগ ওঠাকে তারা ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু জানান, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং কেউ ষড়যন্ত্র করে এই নাটক সাজাতে পারে। তিনি আরও জানান, যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে তা আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং ওই নারীর ছেলের নামে কোনো আবেদনও জমা পড়েনি। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


সার্বিক বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, অভিযোগকারী নারী বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন