পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পাসের একটি পুকুর সংস্কারের আড়ালে মাটি ও বালু খনন করে ট্রাকে করে বাইরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উত্তোলিত এসব নিম্নমানের বালু ও মাটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, সওজ বিভাগের ক্যাম্পাসে অবস্থিত ওই পুকুরে কয়েকদিন ধরে ভেকু দিয়ে খননকাজ চলছে। এরপর খনন করা মাটি ও বালু ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মাটি ও বালু পঞ্চগড় যুব উন্নয়ন মোড় থেকে গোলচত্বর পর্যন্ত চলমান ফোর লেন সড়ক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে নেওয়া হচ্ছে। পুকুর থেকে উত্তোলিত বালু অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়া সত্ত্বেও তা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে খোদ সওজ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সওজ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার আলী জানান, পুকুরটি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে কী কাজ করছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে পুকুরটি খনন করে দিচ্ছে, এতে সওজ বিভাগের সুবিধা হচ্ছে। বিনিময়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকৃত বালু ও মাটি নিয়ে যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাটি ও বালু বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে পঞ্চগড় সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, পুকুর থেকে মাটি খনন করে কেবল স্থানান্তর করা হয়েছে, কোনো ধরনের বিক্রি করা হয়নি।
ডিবিসি/আরএসএল