পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা ১০ জনের মধ্যে চারজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা শামসুল, তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। চারজনেরই ভারতের বৈধ আধার কার্ড রয়েছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামসুল দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সবজির ব্যবসা করতেন। পরিবারসহ তিনি সেখানেই বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরের পর বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে ভোরের দিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়।
বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর থেকে শামসুলের পরিবারসহ মোট ১০ জন সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, তাদের যদি ভারতীয় আধার কার্ড থাকে, তাহলে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছে? তারা যদি ভারতের নাগরিক হয়, তাহলে ভারতকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি শামসুল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান ভারতের নাগরিক। তাহলে তাদের সীমান্তে ফেলে রাখা মানবিক নয়। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সীমান্তে অবস্থানরত নারী ও শিশুসহ ১০ জনের দুর্ভোগ বাড়ছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর