জেলার সংবাদ

পটুয়াখালীতে ঋণ দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে অফিস গুটিয়ে উধাও

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ১৯শে আগস্ট ২০২৬ ০৬:৩২:৩৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পটুয়াখালী শহরের কালিকাপুর ইউনিয়নের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে ভাড়া করা কার্যালয়ে ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে ঋণ না দিয়ে কার্যালয় বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঋণের টাকা নিতে এসে কার্যালয় বন্ধ দেখতে পান প্রায় ৩০ জন গ্রাহক। পরে তারা বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানান। এ সময় টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।


ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানার টাঙিয়ে ওই বাড়িতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৪৩৯/১৯৯০ এবং ‘আর্থিক সহযোগিতায় পিকেএসএফ’ লেখা ছিল। এসব পরিচয়ে আস্থা তৈরি করে তাদের কাছ থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চয়ের কথা বলে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।


গ্রাহকেরা জানান, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার বিপরীতে ১১ হাজার টাকা করে সঞ্চয় জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়। ঋণের আশায় অনেকেই ওই টাকা জমা দেন।


এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে ঋণের টাকা দেওয়া হবে। তাই নির্ধারিত সময়ে আমরা অফিসে আসি। এসে দেখি অফিস বন্ধ। যাদের কাছে টাকা দিয়েছি, তাদের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।’


আরেক গ্রাহক বলেন, ‘আমরা এই অফিসে বসেই টাকা দিয়েছি। এখানে ল্যাপটপ, বিভিন্ন কাগজপত্র, টেবিল-চেয়ার ছিল। তারা নিজেদের নতুন সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। বাড়ির মালিকের ছেলের সামনেও আমরা টাকা দিয়েছি।’


ভাড়া করা বাড়ির মালিক মাওলানা জাফর খানের ছেলে সোহাগ বলেন, ‘গতকাল ওই লোকজন আমাদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আসে। তারা কোনো অগ্রিম টাকা দেয়নি। ভোটার আইডি কার্ডের কপিও দেয়নি। কয়েকটি টেবিল-চেয়ার এনে অফিসের মতো করে সাজিয়েছিল। এর বেশি তাদের বিষয়ে আমরা জানতাম না। আজ দুপুরে শুনি, তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সমস্যায় ফেলেছে।’


তবে ব্যানারে উল্লেখ করা ‘সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০৪৩৯/১৯৯০ এবং পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতার দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।


যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন