পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজ খেতের জমি দখল ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে উজ্জল কর্মকার (৪০) নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় কৃষকসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত উজ্জল কর্মকার কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন- মিজানুর রহমান, শামীম হোসেন ও তরমুজ চাষি ফিরোজ গাজী। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরওয়াডেল এলাকায় একটি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ করে আসছিলেন কৃষক ফিরোজ গাজী। তবে ওই জমি নিয়ে স্থানীয় মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর ওই জমি নিজের দাবি করে ফিরোজের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ফিরোজ গাজী তার খেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ করতে গেলে মিজানুর ৮-১০ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। হামলাকারীরা ফিরোজ গাজীকে মারধর শুরু করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
একপর্যায়ে স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের পাল্টা ধাওয়া দেয় এবং উজ্জল, মিজানুর ও শামীমকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা তিনজনই গুরুতর জখম হন। রাত আটটার দিকে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উজ্জল কর্মকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ডিবিসি/এসএফএল