জেলার সংবাদ

পটুয়াখালীতে সালিশ করতে আসায় নারী ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তানিয়া বেগম (৩৮)-কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম ঘেরাখালী মোল্লা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তানিয়া বেগমের ভাষ্য, স্থানীয় একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সালিশে সালিশদার হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন তার ওপর চড়াও হন। এতে তার মাথা ও হাতে আঘাত লাগে এবং একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

 

তানিয়া বেগম বলেন, ‘সালিশে যাওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশকে ফোনে জানিয়েছিলাম। সালিশের সিদ্ধান্ত না মেনে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে খবির, লিটন গাজী, রিপন, রত্তন, আলমগীর, লিমন ও লতিফ সিকদারসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করেন। এতে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি বিচার চাই।’

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও তানিয়া বেগমের ভাই জলিল বলেন, ‘আমার বোন সেখানে সালিশ করতে গিয়েছিলেন। তাকে দেখেই হামলাকারীরা প্রশ্ন করেন, এখানে কেন এসেছেন। এরপর তার ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীদের কয়েকজন একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওই মামলায় আমার বোন সাক্ষী। ওই মামলার জের ধরে এ হামলা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’

 

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সালিশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশের আগের দিন অভিযুক্তরা সেখানে ঘর নির্মাণ করতে যান। বিষয়টি মেম্বারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি আসার পরপরই তার ওপর হামলা করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।’

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সময় আলেপ মোল্লা, শাহজাহান মোল্লা, লাইজু, সাহিদা ও জলিলসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

তবে ইউপি সদস্য তানিয়া বেগমকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিটন গাজী। তিনি বলেন, ‘তানিয়া মেম্বারকে কেউ মারধর করেনি। তিনি নিজ ইচ্ছায় রাস্তায় মাটিতে শুয়ে পড়েছেন। তিনি সালিশদার তাকে আমরা কেন মারতে যাব?’

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পরে এ বিষয়ে আর কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন
 

আরও পড়ুন