আন্তর্জাতিক, ভারত

পদত্যাগ করবো না, বরখাস্ত করুক: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেকোনো মূল্যে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে তিনি জানিয়েছেন, ‘ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক।’ গতকাল থেকে শুরু হওয়া তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

৭১ বছর বয়সী এই নেত্রী নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই নিজের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে 'নোংরা খেলা'র অভিযোগ তুলেছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা এবং বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী জোটের পরাজয়ের বিষয়টিও তিনি সামনে এনেছেন। আজ দলীয় বিধায়কদের সাথে এক বৈঠকে মমতা জানান, গত ২৯ এপ্রিল থেকে চলা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস আদালতে যাবে। দলের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কথা বললে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দলকে প্রতিবাদী অবস্থানে রাখার অংশ হিসেবে বিধানসভা খোলার দিনটিতে 'কালো পোশাক দিবস' পালনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

 

অন্যদিকে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দৌড়ে এগিয়ে থাকা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী বাংলায় নির্বাচন-পরবর্তী কোনো বড় সহিংসতার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেসব বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, তা ২০২১ সালের সহিংসতার তুলনায় অনেক কম। এখনো কিছু দুষ্কৃতী বাইরে আছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

 

এদিকে মমতার পদত্যাগ না করার ঘোষণায় রাজনৈতিক নেতারা নিয়মকানুনের বই ঘাঁটতে শুরু করেছেন। তবে সংবিধানে এই বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশিকা (এসওপি) নেই, কারণ এমন পরিস্থিতির কথা সম্ভবত আগে কখনো ভাবাই হয়নি। বর্তমান নিয়মগুলো নানাভাবে ব্যাখ্যার সুযোগ থাকলেও একটি বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, রাজ্যপাল চাইলে প্রযুক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন। কারণ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টির ওপরই পদে বহাল থাকেন এবং কেবল বিধানসভা ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

 

এক্ষেত্রে আস্থা ভোট বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো বিধান রয়েছে। তবে নতুন জনাদেশ চলে আসায় আস্থা ভোট এখানে প্রযোজ্য নয়। আর রাজ্যপাল সহজেই বিজয়ী দল বা জোটকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির বিষয়টি চরম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজ ৭ মে (বৃহস্পতিবার) বর্তমান বঙ্গীয় বিধানসভার মেয়াদ শেষ হতে চলায় এর সমাধানের জন্য কার্যত কোনো সময়ই বাকি নেই। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সহ অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
 

সূত্র: এনডিটিভি

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন