রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান, তার মা রেহেনা আক্তার ও সাত বছরের ভাগনে তাজবিদকে চোখের জলে বিদায় জানাল স্বজন ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর কবরস্থানে পাশাপাশি তিনটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে সকাল থেকেই ভবানীপুর গ্রামের লালমিয়া সড়কের বাড়িতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ আর শোকাবহ পরিবেশ। গত ডিসেম্বরেই রাইয়ান তার বাবাকে হারিয়েছিলেন। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটি এখন স্তব্ধ। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের চোখেও ছিল জল।
গত বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহন-এর বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাইয়ানের বোন চিকিৎসক নুসরাত জাহান খান কোনোমতে বাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও ভেতরে আটকে পড়েন মা রেহেনা আক্তার (৬১), ভাই রাইয়ান (২৫) এবং ছেলে তাজবিদ (৭)। রাতে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। কেবল মেধাবী ছাত্র হিসেবেই নয়, একজন দক্ষ বিতার্কিক হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছিল। স্কুল জীবন থেকেই জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে অংশ নিতেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও ছিলেন বিতর্কচর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন অগ্রণী।
স্বজন ফারুক হোসেন বিলাপ করতে করতে বলেন, "যুক্তি আর বুদ্ধির আলো ছড়ানোই ছিল রাইয়ানের স্বপ্ন। কিন্তু ঘাতক পদ্মা সেই স্বপ্ন কেড়ে নিল। যে নিরাপদ সড়কের জন্য সে সোচ্চার ছিল, সেই সড়কেই প্রাণ দিতে হলো তাকে।"
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদী থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের ভেতরে আরও কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় রাজবাড়ী জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডিবিসি/এসএফএল