শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর ২৯ নম্বর পিলার এলাকায় দুটি বাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে তোফায়েল মিয়া (২৭) নামে এক বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৫ই ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৬ই ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত তোফায়েল মিয়া মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ফকির মাহমুদ আকন কান্দি এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং বসুমতী পরিবহনের হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সেতু কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে কুয়াকাটা অভিমুখী 'পদ্মা স্পেশাল পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ করেই পদ্মা সেতুর ২৯ নম্বর পিলার বরাবর এসে দাঁড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনে থাকা ভাঙ্গাগামী 'বসুমতী পরিবহন' নামের আরেকটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের ফলে বসুমতী পরিবহনের হেলপার তোফায়েল মিয়া ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত হেলপারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে, সেতু কর্তৃপক্ষের রেকার ব্যবহার করে দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটিকে দ্রুত আলাদা লেনে সরিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে সেতুর উপর কোনো প্রকার যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, পদ্মা স্পেশাল পরিবহনটি চলতে চলতে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে পড়লে পেছন থেকে আসা বসুমতী পরিবহন সজোরে ধাক্কা মারে। এতে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। আমরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। রেকারের মাধ্যমে বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ায় যানজট এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আমরা সবসময় চালকদের সেতুর উপর না দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করে থাকি।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিবিসি/এএমটি