ক্রিকেটারদের কঠোর আন্দোলনের মুখে অবশেষে নমনীয় হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিবির একটি জরুরি অনলাইন সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
বিসিবির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ক্রিকেটারদের দাবির প্রেক্ষিতে নাজমুলকে শুধুমাত্র অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকেই সরানো হচ্ছে না, বরং বোর্ডের অন্যান্য সকল কার্যক্রম থেকেও তাকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি অর্থ কমিটির প্রধান ছাড়া অন্য কোনো দায়িত্বে নেই।
তবে বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সরাসরি বোর্ড পরিচালকের পদ থেকে তাকে অপসারণ করার সুযোগ বোর্ডের হাতে নেই। গঠনতন্ত্র মতে মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, দেউলিয়াত্ব, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিতি অথবা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা ছাড়া পরিচালকের পদ শূন্য হয় না। যেহেতু প্রথম পাঁচটি কারণ নাজমুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তাই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে পরিচালক হিসেবেই বহাল থাকবেন।
বিসিবির গঠনতন্ত্রে ক্রিকেটারদের জন্য আচরণবিধি থাকলেও পরিচালকদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আচরণবিধি না থাকায় তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা রয়েছে।
নাজমুলকে নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় ক্রিকেটারদের নিয়ে তার কিছু অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের পর। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামিম ইকবালকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেও তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন আল্টিমেটাম দেন যে, নাজমুল পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন না। এই অচলাবস্থার কারণে মিরপুরে বিপিএলের আজকের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিকেলের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় তারা খেলতে রাজি আছেন। বিসিবির এই সিদ্ধান্তের পর এখন বল ক্রিকেটারদের কোর্টে। সন্ধ্যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানসের মধ্যকার ম্যাচটি মাঠে গড়াবে কি না, তা এখন ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ডিবিসি/এনএসএফ