রাস্তায় যত্রতত্র থুথু ফেলা, মলমূত্র ত্যাগ করা কিংবা আবর্জনা ও নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ফেললে এখন থেকে গুণতে হবে জরিমানা। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শহর ও পৌর এলাকায় এই নতুন নিয়ম চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই নিয়মের আওতায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১০০ থেকে ২০০ রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাস্তায় থুথু ফেললে ১০০ রুপি এবং মলমূত্র ত্যাগ, যত্রতত্র আবর্জনা বা ১২৫ মাইক্রনের কম পুরু সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক ফেললে ২০০ রুপি জরিমানা দিতে হবে। নগরোন্নয়ন মন্ত্রী জানান, সরকারের মূল উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। টানা আট বছর ধরে ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলোকেও সরকার পরিচ্ছন্ন দেখতে চায়।
শহর পরিষ্কার রাখার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার রাস্তাঘাটে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর শৌচাগার এবং বাজারগুলোতে ব্যাগ ভেন্ডিং মেশিন বসাচ্ছে। তবে আবাসিক এলাকাগুলোতে কোনো ডাস্টবিন রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আবাসিক এলাকায় ডাস্টবিন থাকলে মানুষ সেখানে অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলে। এর বদলে পৌরকর্মীরা প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে আলাদা ব্যাগে শুকনো ও ভেজা বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। কেবল বাজার, বাসস্ট্যান্ড বা রেলস্টেশনের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানেই ডাস্টবিন রাখা হবে।
জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এ জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যা প্রতিটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তত দুজন অনুমোদিত কর্মীর মোবাইলে থাকবে। কেউ নিয়ম ভাঙলে ওই কর্মীরা ঘটনাস্থলের ছবি তুলে অপরাধীর নাম, ফোন নম্বর ও অপরাধের ধরন অ্যাপে আপলোড করবেন। এরপর একটি কিউআর কোড (QR Code) তৈরি হবে, যা স্ক্যান করে অপরাধীকে ডিজিটাল মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে তাঁর মোবাইলে একটি রসিদ চলে যাবে এবং জরিমানার টাকা সরাসরি পৌরসভার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এ কাজে স্থানীয় পুলিশও সহায়তা করবে।
বর্তমানে কেবল অনলাইনেই জরিমানা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, আগামীতে অফলাইনেও জরিমানা আদায়ের জন্য একটি নির্দেশিকা (এসওপি) প্রস্তুত করছেন কর্মকর্তারা। রাজ্যের নগর উন্নয়ন সংস্থার (সুডা) পরিচালক নবীন কুমার চন্দ্র জানান, পরবর্তী ধাপে সরকার কিউআর কোডভিত্তিক বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি বাড়িতে একটি করে কিউআর কোড থাকবে এবং বর্জ্য সংগ্রাহক ময়লা নেওয়ার পর সেটি স্ক্যান করবেন। কোনো দিন বর্জ্য সংগ্রাহক না এলে বাড়ির মালিক এর মাধ্যমে সহজেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ডিবিসি/এসভিএন