ইউক্রেনের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে পশ্চিমাদের নীরবতাকে ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে উদ্বেগে ফেটে পড়েছিল, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে দফায় দফায় হামলার ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া তার ঠিক উল্টো।
আরাগচি সতর্ক করে বলেন, বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ফলে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় বিকিরণ শুধুমাত্র ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীগুলো এই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমাদের সেই ক্ষোভের কথা মনে আছে? অথচ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বুশেহর কেন্দ্রে এ পর্যন্ত চারবার বোমা হামলা চালিয়েছে। মনে রাখবেন, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কেবল তেহরান নয়, বরং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীগুলোতেও প্রাণের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলবে।
মন্ত্রী আরাগচি অভিযোগ করেন, ইরানের শিল্প অবকাঠামো ধ্বংস করাই হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য। আজ শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খোজিস্থান প্রদেশের মাহশাহর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে গুপ্তহত্যার পর ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কোনো উস্কানি ছাড়াই শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও বসে থাকেনি। তারা ইসরায়েলের অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের কিনারে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল