আন্তর্জাতিক, এশিয়া

পাকিস্তানের অনুরোধে আরাগচি ও গালিবাফকে হত্যা তালিকা থেকে বাদ দিল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানের করা এক বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে নিজেদের ‘হিট লিস্ট’ বা হত্যার তালিকা থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রয়টার্সকে আলোচনার বিষয়ে অবগত পাকিস্তানের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানায়, ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে ওই দুই ইরানি নেতার সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানা ছিল এবং তারা তাদের হত্যা করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, এ দুই নেতাকেও যদি সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে শান্তি আলোচনার জন্য ইরানে আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এ বাস্তবমুখী সতর্কবার্তার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এ হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলে।

 

এ বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য এ দুই নেতাকে হিট লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ করলেও, সেখানে নেপথ্যে থাকা পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ ছিল না।

 

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে বর্তমানে নিবিড়ভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বুধবার (২৫ মার্চ) পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি ১৫ দফার প্রস্তাব ইরানের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

 

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা প্রস্তাবটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের দাবিগুলো তেহরানের কাছে অনেকটাই বাড়াবাড়ি মনে হলেও তারা তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ ওয়াশিংটনের নয়, বরং তেহরানের শর্তেই শেষ হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান ইতিমধ্যে পাঁচ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাবও দিয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন ইরান চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে আছে। এর বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো উদ্দেশ্য আপাতত তেহরানের নেই।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিনেই দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হন। পরবর্তীতে এ ধারাবাহিক হামলায় প্রাণ হারান নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন