ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানের আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে গুপ্তচরবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছিল।
এ ঘটনার পর ওই অঞ্চলে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) লিয়াকত আলি মালিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংবেদনশীল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আগাম ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা পুরো নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গুপ্তচরবৃত্তির এ কৌশলে মূলত ব্ল্যাকমেইলকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। শুরুতে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করা হয়। আইজিপি লিয়াকত আলি মালিক জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির হ্যান্ডলার লাহোরের ঠিকানাযুক্ত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। ফাঁদে ফেলার পর ওই ব্যক্তির ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং চ্যাটের তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়ার পর শুরুতে তাকে দিয়ে সাধারণ তথ্য আদান-প্রদানের মতো ছোটখাটো কাজ করানো হলেও, ধীরে ধীরে তা অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে আজাদ কাশ্মীর ও পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা, সেতু, স্কুল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের জিওট্যাগিং, নির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট) শেয়ার করা এবং ভিডিও ধারণ করে পাঠানোর মতো বিপজ্জনক কাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। শত্রুপক্ষ নিরীহ তরুণদের ফাঁদে ফেলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি করছে উল্লেখ করেন তিনি।
আইজিপি পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের পবিত্র ভূমি রক্ষায় এবং শত্রুর যেকোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে তারা যেকোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ পুনরুজ্জীবিত করতে প্রক্সি ব্যবহার করছে। নয়াদিল্লি তাদের ‘আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী’ নীতি পরিত্যাগ না করলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন।
এর আগেও পাকিস্তানে এ ধরনের সন্দেহভাজন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে পাঞ্জাবের কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) লাহোর, ফয়সালাবাদ ও বাহাওয়ালপুরে অভিযান চালিয়ে ‘র’ এর হয়ে কাজ করার সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছিল। তার আগে আগস্ট মাসেও সিটিডি ‘র’ এর একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করার কথা জানায়, যারা পাকিস্তানি নাগরিক এবং সিন্ধুর একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে ব্যবহার করে বাদিন জেলার মাতলি এলাকায় এক পরিচিত সমাজকর্মীকে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ডন
ডিবিসি/এএমটি