আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ করলে, শত্রুদের ‘ভয়ঙ্কর’ দশা হবে: সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ নিলে শত্রুপক্ষকে অত্যন্ত বিস্তৃত, বিপজ্জনক ও বেদনাদায়ক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। রবিবার (১০ মে) রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদরদপ্তরে (জিএইচকিউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আসিম মুনির দাবি করেন, ওই যুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনৈতিক ও তথ্যযুদ্ধেও অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে।

 

গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়া এই সংঘাতকে পাকিস্তান সরকার ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ছাড়াও বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রধান উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে মুনির উল্লেখ করেন, ৬ থেকে ১০ মে পর্যন্ত শত্রুপক্ষ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই লড়াইকে দুই মতাদর্শের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল ভারতের দীর্ঘমেয়াদী শোষণমূলক কৌশলেরই অংশ।

 

আসিম মুনির ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও যুদ্ধোন্মাদনার মাধ্যমে অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের ভুল ধারণা ভেঙে দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে এবং এবারও অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুসের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশল উন্মোচন করে দিয়েছে। তাঁর মতে, ভারত সামরিক আগ্রাসন ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্য বদলাতে চাইলেও তাদের সক্ষমতা উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক কম ছিল।

 

যুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগই স্বাধীনতার গ্যারান্টি। তিনি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্যই পাকিস্তানের প্রকৃত শক্তি, যা যুদ্ধের সময় ‘লোহার দেয়ালের’ মতো কাজ করেছে। সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তান নৌবাহিনী ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে উপকূল থেকে হাজার মাইল দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বিমানবাহিনী আধুনিক আকাশযুদ্ধের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

 

আসিম মুনির আরও দাবি করেন, সংঘাতের সময় পাকিস্তান ভারতের ২৬টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানোর পর ভারত মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায় এবং আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থে পাকিস্তান তা গ্রহণ করে। ভবিষ্যতে প্রচলিত যুদ্ধের বদলে সাইবার যুদ্ধ, ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব বাড়বে উল্লেখ করে তিনি জানান, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স ও আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড গঠনসহ মহাকাশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শান্তি বজায় রাখতে হলে সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা বাধ্যতামূলক।

 

সূত্র: দ্য ডন

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন