আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

পাকিস্তানের করাচি বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, জুমার নামাজের থাকায় প্রাণে বাঁচলেন অনেকেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাকিস্তানের করাচি বন্দরের ওয়েস্ট ওয়ার্ফ এলাকায় আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বন্দরের ভেতরে থাকা অন্তত ২০টি পণ্যবাহী কনটেইনার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকরা জুমার নামাজ আদায় করতে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

দক্ষিণ করাচির ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, করাচি ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনালের (কেআইসিটি) ওয়েস্ট ওয়ার্ফ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয়।

 

সরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২-এর মুখপাত্র হাসান উল হাসিব খান ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে বন্দরের ওয়েস্ট ওয়ার্ফের গেট-২০ এলাকায় প্রথমে একটি কনটেইনারে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনের তীব্রতায় পাশের আরেকটি কনটেইনারেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে দ্রুত অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল তলব করা হয়।

 

রেসকিউ ১১২ এর দেয়া তথ্যমতে, আগুনের মূল সূত্রপাত ঘটে একটি কনটেইনারে থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ড্রাই কেমিক্যাল ও লিথিয়াম ব্যাটারি থেকে। সেখান থেকে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও ১৯টি কনটেইনারে। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারগুলোতে ব্যাটারি, কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য পণ্য ছিল। সব মিলিয়ে ২০টি কনটেইনার পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

হাসান উল হাসিব খান আরও উল্লেখ করেন, আগুন নেভাতে উদ্ধারকারী দলকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কারণ কেমিক্যাল ও ব্যাটারি থেকে সৃষ্ট এই বিশেষ ধরনের আগুনে সাধারণ পানি খুব একটা কার্যকর হয় না; এর জন্য বিশেষ ধরনের পাউডার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

 

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে করাচি ওয়াটার অ্যান্ড স্যুয়ারেজ করপোরেশন নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ করে। পাশাপাশি রেসকিউ সার্ভিস, করাচি মেট্রোপলিটন করপোরেশন, কেপিটি ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর মোট ২০টি ফায়ার টেন্ডার দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিয়ে কিছুটা ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনারে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে কুলিং বা ঠাণ্ডা করার প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

 

করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (কেপিটি) সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত ও সমন্বিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলেই আরও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার পেশাদারিত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। উল্লেখ্য, করাচি বন্দরে এর আগেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ২০২০ সালে কেয়ামারির একটি তেল টার্মিনালে আগুনে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছিলেন।

 

তথ্যসূত্র: ডন

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন