পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হারনাই ও পাঞ্জগুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক দুটি গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) অন্তত ৪১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, হারনাই জেলার কাছে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী 'ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ' এর উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। গুলি বিনিময়ের পর নিরাপত্তা বাহিনী ৩০ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, যাদের ‘ভারত সমর্থিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাঞ্জগুর জেলায় পরিচালিত অন্য একটি অভিযানে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ এর আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং এ অভিযানে ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নিহতদের কাছ থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাঞ্জগুরে একটি ব্যাংক ডাকাতির সময় লুণ্ঠনকৃত অস্ত্র, অর্থ ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর জন্য ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ পরিভাষাটি ব্যবহার করে। অপরদিকে, পাকিস্তান জুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভারতের কথিত ভূমিকাকে চিহ্নিত করতে বেলুচিস্তান-ভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর জন্য ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর মতে, এই সন্ত্রাসীরা অতীতে অসংখ্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল।
বৃহস্পতিবারের (২৯ জানুয়ারি) এ বড় সফলতার আগে গত ১৫ জানুয়ারি খারান জেলায় পরিচালিত অভিযানে ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল। সে সময় সন্ত্রাসীরা ন্যাশনাল ব্যাংক ও হাবিব ব্যাংকে হামলা চালিয়ে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা লুট করেছিল। এছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি মাস্তুং জেলার দাশত এলাকায় সিটিডির অভিযানে ৫ জন বিএলএ (বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি) সদস্য নিহত হয়, যারা মহাসড়ক অবরোধের পরিকল্পনা করছিল।
ইসলামাবাদ ভিত্তিক পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার আওতায় বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরলস অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অন্য কোনো সন্ত্রাসীর উপস্থিতি আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে অপারেশন চলমান রয়েছে।
তথ্যসূত্র: ডন
ডিবিসি/এএমটি