পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলার জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপক ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযানে অন্তত ৯২ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে।
আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে জানায়, ৩১ জানুয়ারি ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামক একটি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা একযোগে বেলুচিস্তানের একাধিক জেলায় হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু ছিল কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, দলবন্দিন, খারান, পানজগুর, তুম্প, গ্বাদর এবং পাসনি এলাকা। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং ১৮ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে। গ্বাদর ও খারানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল করা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা।
সন্ত্রাসীদের এই সমন্বিত হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা সমগ্র প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ‘ক্লিয়ারেন্স’ বা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে। আইএসপিআর জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযানে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারীসহ মোট ৯২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য। আইএসপিআর তাদের বিবৃতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে উল্লেখ করে যে, জওয়ানরা অসাধারণ সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের নাশকতার বড় ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ)। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে, যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলুচিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলার সরকারি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির স্বাস্থ্য দপ্তর। আহত এবং নিহতদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ভয়াবহ হামলায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তারা দুজনই নিরাপত্তা বাহিনীর তড়িৎ ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: ডন
ডিবিসি/এএমটি