পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে একটি সামরিক অভিযান চলাকালীন আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এতে আরও ৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলেও জানা যায়।
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহর লক্ষ্য করে বিস্ফোরক বোঝাই মোটরসাইকেল নিয়ে হামলা চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবারের এই অভিযানে অন্তত ৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনকে আত্মঘাতী বোমারু হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর অগ্রবর্তী দল বোমারুটিকে থামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় ও বেসামরিক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সেনাবাহিনী এই সশস্ত্র যোদ্ধাদের ‘খারিজি’ (নিষিদ্ধ গোষ্ঠী বা টিটিপি-র ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দ) হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমাদের সাহসী সৈন্যদের এই আত্মত্যাগ জাতিকে রক্ষার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। এই জঘন্য কাজের হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
ইসলামাবাদ দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সীমান্ত সংঘর্ষও হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের তৎপরতা ও হামলা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই প্রদেশটিতে দুটি বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে এক শিশু এবং ১১ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের শেষে সরকারের সাথে টিটিপি-র যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকেই বান্নু ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসএফএল