২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিহত ভারতীয় সেনাদের সংখ্যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করার অভিযোগ উঠল মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের দাবি, অপারেশন সিন্দুর নামক ওই সামরিক অভিযানে প্রাণ হারানো ছয় সেনার মৃত্যুর খবর দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে দেশের মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সংসদে তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের প্রাক্তন সেনাকর্মী বিভাগের চেয়ারপারসন কর্নেল (অব.) রোহিত চৌধুরী এবং উইং কমান্ডার (অব.) অনুমা আচার্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, পাকিস্তানের ওই হামলায় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং বিমানবাহিনীর একজন সদস্য শহীদ হন। কিন্তু সরকার দীর্ঘদিন এই তথ্য গোপন করে শহীদদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করেছে।
উইং কমান্ডার অনুমা আচার্য বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘মোদী সরকার সেনাবাহিনী এবং সৈন্যদের নিয়ে রাজনীতি করে। তারা বারবার দেশ ও দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
অতীত সরকারগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আগে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করা প্রতিটি সেনাকে সর্বদা প্রকাশ্যে সম্মান জানানো হতো।
কর্নেল রোহিত চৌধুরী ক্ষমতাসীন বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, তারা কেবল ভোট চাওয়ার সময় সৈন্যদের নিজেদের হাতিয়ার বা প্রচারের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করে।
সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অতীত বিবৃতির কড়া সমালোচনা করে কর্নেল চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যখন সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলছিলেন যে কোনও সেনা শহীদ হননি, তখন বিজেপি সাংসদরা উল্লাসে হাততালি দিচ্ছিলেন। রাজনাথ সিং দেশের সেনাবাহিনী এবং সৈন্যদের চরম অপমান করেছেন। আমরা অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছি।’
এই ইস্যুতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনার জন্য কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করবে বলেও জানানো হয়েছে। ১৩ মাস পর কেন নিহতদের নাম প্রকাশ্যে আনা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলটি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন ধরে চলা অপারেশন সিন্দুর-এ সেনা হতাহতের খবর বিভিন্ন মহলে ছড়ালেও, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি সরকার ওই সামরিক সংঘাতে শহীদ হওয়া ছয় সেনার নাম প্রকাশ করেছে, যার জেরেই এই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত।
ডিবিসি/এমএনকে