আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

পাকিস্তানে আগুনে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু, তালাবদ্ধ ছিল হাসপাতালের দরজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শীর্ষ সরকারি হাসপাতাল ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস’ (পিমস)-এর প্রসূতি ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনার সময় নার্সারিতে থাকা ১৫টি শিশুর মধ্যে মাত্র একটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, আগুনের সময় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো ফ্লোর এবং জরুরি বহির্গমন পথগুলো ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ফলে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এছাড়া আগুন লাগার পরপরই হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের ফেলে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ স্বজনদের।

 

উদ্ধারকারী দল 'রেসকিউ ১১২২'-এর এক কর্মী জানান, ধোঁয়ার কারণে ভবনে সহজে ঢোকা সম্ভব হয়নি। পরে ভবনের কংক্রিটের গ্রিল ও জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে হয়।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি পথ বন্ধ রাখার বিষয়ে জানায়, ওয়ার্ড থেকে শিশু চুরি ঠেকাতে এবং বহিরাগত পুরুষদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে দরজাগুলো সাধারণত তালাবদ্ধ রাখা হতো। তবে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল প্রশাসন দাবি করেছে, আগুন লাগার সময় সেখানে দুজন চিকিৎসক ও চারজন নার্স দায়িত্বে ছিলেন।

 

এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফেডারেল স্বাস্থ্যসচিব আসলাম ঘৌরিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এর আগে ২০২৪ সালের জুনেও পাঞ্জাবের সাহিওয়াল টিচিং হাসপাতালে একই ধরনের এসি শর্ট সার্কিটের আগুনে ১১ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন গাফিলতিতে হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্বজনরা।

 

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন