আন্তর্জাতিক, ভারত

পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যাবে না: ভারতের মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাকিস্তানে যেন এক ফোঁটা পানিও না যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী সি.আর পাটিল। গত বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করার পর ভারত এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তবে পাকিস্তান আগেই সতর্ক করে বলেছে, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা তারা যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করবে। 

 

ইসলামাবাদের দাবি, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং একতরফাভাবে তা বাতিল করার কোনো ব্যবস্থা চুক্তিতে নেই।

 

সি. আর. পাটিল বলেন, এটি নিশ্চিত যে আগামী বছরগুলোতে এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যাবে না। হিন্দিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভারত সরকার এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

 

১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় ছয়টি নদীর পানি ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব নদীর উৎস ভারতে হলেও সেগুলো পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিন্ধু অববাহিকার অংশ গঠন করেছে। এই পানি সম্পদের ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষ।

 

সিন্ধু নদী ভারত ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের সংবেদনশীল সীমারেখা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়েছে। হিমালয়ঘেরা এই অঞ্চল নিয়ে দুই দেশই পূর্ণ মালিকানা দাবি করে।

 

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ঘোষণা করে যে তারা সিন্ধু পানি চুক্তিতে নিজেদের অংশগ্রহণ স্থগিত করছে। এর আগে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি। যদিও পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে।

 

পরবর্তীতে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে চার দিনের সংঘাত শুরু হয়। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবর্ষণে উভয় পক্ষের প্রায় ৭০ জন নিহত হন। এরপর থেকেই পানি ইস্যু দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

 

চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

 

তাছাড়া ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানায়, জানুয়ারিতে চেনাব নদীর ওপর অবস্থিত সালাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে, যা তারা সিন্ধু পানি চুক্তির সমাপ্তির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং তার আগে বড় ধরনের প্রভাব দেখা যাবে না।

 

ডিবিসি/ এইচএপি

আরও পড়ুন