পাকিস্তানে ১৭ বছর বয়সী টিকটক তারকা সানা ইউসুফকে হত্যার দায়ে উমর হায়াত নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত বছরের জুনে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সানার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত এই রায় দিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত জুলাইয়ে ২৩ বছর বয়সী উমর হায়াত তার অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি জানান, অনলাইনে কিছু কথোপকথনের পর সানার প্রতি তিনি একতরফা আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই রায়ের পর সানার বাবা সৈয়দ ইউসুফ হাসান জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের আদালতের এই রায় সমাজের সব অপরাধীর জন্য একটি "শিক্ষা"। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ঘাতক উমরকে ২৫ লাখ রুপি (৯ হাজার ডলার) সানার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, হত্যার কয়েকদিন আগে সানাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন উমর। সানা দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালেও উমর জোর করে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, যা শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। এই ঘটনার তদন্তে নিহতের পরিবারের বসবাসরত এলাকা রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেসময় মোট ১১৩টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়।
মৃত্যুর আগে টিকটকে সানার ১০ লাখের বেশি এবং ইনস্টাগ্রামে ৫ লাখের বেশি অনুসারী ছিল। ফ্যাশন, লিপ-সিঙ্কিং এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডার হালকা মেজাজের সব ভিডিওর জন্য তিনি ভক্তদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। অধিকারকর্মীরা বলছেন, সানার হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে নারীদের ওপর চলমান সহিংসতারই একটি বৃহৎ অংশ।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পর সানার ইনফ্লুয়েন্সার কাজ নিয়ে কিছু সমালোচনাও দেখা গেছে। ডিজিটাল রাইটস অ্যাডভোকেসি গ্রুপ 'বলো ভি'-এর পরিচালক উসামা খিলজি জানান, কিছু পুরুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে সানার কাজের সমালোচনা করছেন এবং এসব 'পাপ' কাজ দাবি করে তার পরিবারের প্রতি অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলার আহ্বান জানাচ্ছেন। বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ফারজানা বারি এই ধরনের প্রতিক্রিয়াকে ‘নারীবিদ্বেষী’ ও ‘পিতৃতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাকিস্তানের নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ জায়গা হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/পিআরএএন